জন্ম নিবন্ধন যাচাই | অনলাইন আবেদন ও সংশোধন ২০২৬
জন্ম সনদ যাচাই, নতুন আবেদন এবং তথ্য সংশোধন করুন ঘরে বসেই। BDRIS অফিসিয়াল গাইড।
🔗 গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল লিংক সমূহ
📋 জন্ম নিবন্ধন কি এবং কেন প্রয়োজন?
জন্ম নিবন্ধন হলো একজন ব্যক্তির জন্মের আনুষ্ঠানিক রেকর্ড যা সরকারি ডাটাবেসে সংরক্ষিত থাকে। বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।
জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্ব:
- ✅ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য আবশ্যক
- ✅ পাসপোর্ট তৈরির জন্য প্রয়োজন
- ✅ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) পাওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক
- ✅ বিবাহ নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন
- ✅ সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রমাণে ব্যবহৃত হয়
- ✅ সরকারি চাকরি ও বিভিন্ন সেবা পেতে আবশ্যক
- ✅ শিশুর নাগরিকত্বের প্রমাণ
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের BDRIS (Bangladesh Birth and Death Registration Information System) এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জন্ম নিবন্ধন, সংশোধন এবং যাচাই করা যায়।
💰 জন্ম নিবন্ধন ও সংশোধনের ফি (২০২৬)
| সময়সীমা | নতুন নিবন্ধন ফি | সংশোধন ফি |
|---|---|---|
| জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে | বিনামূল্যে (০ টাকা) | ৫০ টাকা |
| ৫ বছরের মধ্যে | ২৫ টাকা | ৫০ টাকা |
| ৫-২৫ বছরের মধ্যে | ৫০ টাকা | ১০০ টাকা |
| ২৫-৪৫ বছরের মধ্যে | ১০০ টাকা | ২৫০ টাকা |
| ৪৫ বছরের পরে | ২০০ টাকা | ৫০০ টাকা |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সংশোধন ফি তথ্যের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। একাধিক তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য।
নতুন নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন:
- হাসপাতালের ছাড়পত্র বা টিকার কার্ড (শিশুদের জন্য)
- বাবা ও মায়ের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং NID কার্ডের কপি
- ঠিকানার প্রমাণ: হোল্ডিং ট্যাক্স, বিদ্যুৎ/গ্যাস বিল, বা ভাড়ার রশিদ
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি (১ কপি)
- শিক্ষাগত সনদ (১৮ বছরের বেশি বয়সের ক্ষেত্রে)
- চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র (বয়স্কদের ক্ষেত্রে)
📝 আবেদন প্রক্রিয়া:
- অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
- Application ID সংরক্ষণ করুন
- ফর্ম প্রিন্ট করুন (Header-Footer সহ)
- কাগজপত্র সংযুক্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে অফিসে জমা দিন
তথ্য সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দলিল
জন্ম নিবন্ধনে ভুল তথ্য থাকলে সংশোধনের জন্য নিম্নলিখিত প্রমাণপত্র প্রয়োজন:
নাম সংশোধন:
- শিক্ষাগত সনদ (SSC/সমমান)
- বাবা-মায়ের NID বা জন্ম সনদ
- চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র
জন্ম তারিখ সংশোধন:
- SSC সার্টিফিকেট (অবশ্যই)
- হাসপাতালের সার্টিফিকেট
- ডাক্তারের প্রত্যয়নপত্র
ঠিকানা সংশোধন:
- হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ
- বিদ্যুৎ/গ্যাস বিলের কপি
- জমির দলিলের কপি
পিতা-মাতার নাম সংশোধন:
- পিতা-মাতার NID কার্ড
- বিবাহ সনদ
- পিতা-মাতার জন্ম সনদ
⚡ দ্রুত সংশোধনের টিপস:
- সকল কাগজপত্র স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য কপি জমা দিন
- অনলাইন আবেদনের পর দ্রুত অফিসে জমা দিন
- Application ID সংরক্ষণ করে নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করুন
নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া
বাংলাদেশে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন করা এখন অত্যন্ত সহজ। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে ঘরে বসেই আবেদন করুন:
ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ
আপনার ব্রাউজারে bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে যান। হোমপেজে Birth Registration মেনু থেকে New Application অপশন সিলেক্ট করুন। প্রথমে আপনার নিবন্ধন করার স্থান (জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানা) নির্বাচন করুন।
ধাপ ২: নিবন্ধনের স্থান নির্বাচন
বিভাগ, জেলা, উপজেলা/থানা, ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন এবং ওয়ার্ড নম্বর সিলেক্ট করুন। সঠিক ঠিকানা নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর উপর ভিত্তি করেই সনদ ইস্যু হবে।
ধাপ ৩: শিশুর বা আবেদনকারীর তথ্য
নিম্নলিখিত তথ্য সাবধানে পূরণ করুন:
- নাম: বাংলা ও ইংরেজি উভয়ে (বানান সাবধানে লিখুন)
- জন্ম তারিখ: দিন/মাস/বছর সঠিকভাবে দিন
- লিঙ্গ: পুরুষ/মহিলা/অন্যান্য
- জন্মস্থান: গ্রাম/রাস্তা, ডাকঘর, থানা সহ সম্পূর্ণ ঠিকানা
- জন্মের ধরন: একক/যমজ/তিন বা ততোধিক
ধাপ ৪: পিতা-মাতার তথ্য প্রদান
পিতা-মাতার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর প্রদান করুন। নম্বর সঠিক হলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের নাম, জাতীয়তা এবং NID নম্বর প্রদর্শন করবে। যদি পিতা-মাতার জন্ম সনদ না থাকে, তবে তাদের NID নম্বর দিয়ে তথ্য পূরণ করতে পারবেন।
ধাপ ৫: স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা
স্থায়ী ঠিকানা: বিভাগ, জেলা, উপজেলা, গ্রাম/রাস্তা, ডাকঘর ইত্যাদি পূরণ করুন। যদি বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা একই হয়, তবেSame as Permanent Address বক্সে টিক দিন।
ধাপ ৬: আবেদনকারীর তথ্য
আবেদনকারী কে তা নির্বাচন করুন:
- নিজ: প্রাপ্তবয়স্ক নিজের জন্য আবেদন করলে
- পিতা/মাতা: শিশুর জন্য পিতা-মাতা আবেদন করলে
- অভিভাবক: অন্য কোনো অভিভাবক আবেদন করলে তাদের তথ্য ও সম্পর্ক উল্লেখ করুন
ধাপ ৭: তথ্য রিভিউ ও সাবমিট
সকল তথ্য পূরণের পর Preview বাটনে ক্লিক করে তথ্যগুলো যাচাই করুন। কোনো ভুল থাকলে সংশোধন করুন। সব ঠিক থাকলেSubmit বাটনে ক্লিক করুন। সফলভাবে সাবমিট হলে একটি Application ID পাবেন—এটি অবশ্যই সংরক্ষণ করুন।
ধাপ ৮: আবেদন পত্র প্রিন্ট করুন
⚠️ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
প্রিন্ট করার সময় অবশ্যই Headers and Footers অপশন ON রাখুন। এটি না থাকলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
আবেদন পত্র ডাউনলোড করে A4 সাইজ কাগজে প্রিন্ট করুন। প্রিন্ট কপিতে আবেদনকারীর স্বাক্ষর করুন এবং তারিখ উল্লেখ করুন।
ধাপ ৯: কাগজপত্র জমা দিন
প্রিন্ট করা আবেদন পত্র ও নিম্নলিখিত কাগজপত্র নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে স্থানীয় অফিসে (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন) জমা দিন:
- প্রিন্ট করা আবেদন পত্র (স্বাক্ষরিত)
- হাসপাতালের ছাড়পত্র/টিকার কার্ডের কপি
- বাবা-মায়ের জন্ম সনদ ও NID কার্ডের কপি
- ঠিকানার প্রমাণপত্র
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- প্রযোজ্য ফি (যদি থাকে)
ধাপ ১০: আবেদনের অবস্থা যাচাই
আপনার Application ID দিয়ে BDRIS ওয়েবসাইটে গিয়ে নিয়মিত আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করুন। স্ট্যাটাস দেখাবে:
- Pending: আবেদন প্রক্রিয়াধীন
- Verified: যাচাই সম্পন্ন
- Approved: অনুমোদিত
- Rejected: বাতিল (কারণ উল্লেখ থাকবে)
ধাপ ১১: জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রাপ্তি
যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলে ১০-১৫ কর্মদিবসের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন সনদ পাবেন। সনদ পাওয়ার পর অবশ্যই everify.bdris.gov.bd এ গিয়ে সত্যতা যাচাই করে নিন।
⚡ গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
- ✅ নামের বানান অত্যন্ত সাবধানে লিখুন - পরবর্তীতে সংশোধন করতে সময় ও অর্থ দুটোই লাগবে
- ✅ Application ID সংরক্ষণ করুন এবং রেজিস্ট্রার্ড মোবাইল নম্বর সচল রাখুন
- ✅ সকল কাগজপত্র স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য কপি জমা দিন
- ✅ প্রিন্ট করার সময় Headers and Footers অবশ্যই ON রাখুন
- ✅ জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে আবেদন করলে কোনো ফি লাগে না
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার সম্পূর্ণ নিয়ম
আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ সত্যি কিনা বা সঠিক তথ্য আছে কিনা তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন:
- ✓ জন্ম নিবন্ধন নম্বর (১৭ ডিজিট)
- ✓ জন্ম তারিখ (YYYY-MM-DD ফরমেটে)
- ✓ ইন্টারনেট সংযোগ
ধাপ ১: যাচাই ওয়েবসাইটে প্রবেশ
আপনার ব্রাউজারে everify.bdris.gov.bd লিংকে প্রবেশ করুন। এটি জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের একমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। অন্য কোনো সাইটে যাবেন না, নকল সাইটের ঝুঁকি আছে।
ধাপ ২: নিবন্ধন নম্বর প্রদান
Birth Registration Number ঘরে আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর টাইপ করুন।
নম্বর কোথায় পাবেন:
- জন্ম নিবন্ধন সনদের উপরের দিকে
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর পিছনে (জন্ম নিবন্ধন নম্বর অংশে)
- পাসপোর্টের তথ্য পাতায়
সতর্কতা: একটি ভুল ডিজিট হলেও তথ্য পাবেন না। সনদ দেখে দেখে সাবধানে লিখুন।
ধাপ ৩: জন্ম তারিখ প্রদান
Date of Birth ঘরে YYYY-MM-DD ফরমেটে জন্ম তারিখ লিখুন।
উদাহরণ:
- ২৫ আগস্ট, ১৯৯৮ =
1998-08-25 - ০১ জানুয়ারি, ২০০৫ =
2005-01-01 - ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ =
2020-12-15
ধাপ ৪: ক্যাপচা সমাধান করুন
স্ক্রিনে একটি ক্যাপচা ইমেজ দেখাবে যেখানে একটি সাধারণ গাণিতিক সমস্যা থাকবে (যেমন: ৫ + ৩ = ?)। সমাধান করে নিচের ঘরে লিখুন। ক্যাপচা স্পষ্ট না হলে Reload আইকনে ক্লিক করে নতুন ক্যাপচা আনুন।
ধাপ ৫: সার্চ করুন
সব তথ্য পূরণের পর Search বা Submit বাটনে ক্লিক করুন। সঠিক তথ্য দিলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আপনার জন্ম নিবন্ধন তথ্য প্রদর্শিত হবে:
- নাম (বাংলা ও ইংরেজি)
- পিতা-মাতার নাম
- জন্ম তারিখ
- জন্মস্থান
- নিবন্ধন তারিখ
- নিবন্ধন নম্বর
ধাপ ৬: যাচাই কপি ডাউনলোড করুন
তথ্য সঠিকভাবে প্রদর্শিত হলে Download বা Print Verification Copy বাটনে ক্লিক করুন। একটি PDF ফাইল ডাউনলোড হবে যাতে আপনার জন্ম নিবন্ধন তথ্য এবং একটি QR কোড থাকবে।
যাচাই কপির ব্যবহার:
- পাসপোর্ট আবেদনে
- NID কার্ড সংশোধনে
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে
- বিভিন্ন সরকারি কাজে
- চাকরির আবেদনে
⚠️ সমস্যা ও সমাধান:
সমস্যা: Record Not Found দেখাচ্ছে
সমাধান: (১) নিবন্ধন নম্বর ও তারিখ পুনরায় চেক করুন, (২) সনদটি হয়তো এখনও ডিজিটাল হয়নি - স্থানীয় অফিসে যোগাযোগ করুন
সমস্যা: ভুল তথ্য দেখাচ্ছে
সমাধান: তথ্য সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করুন (bdris.gov.bd/br/correction)
সমস্যা: ওয়েবসাইট খুলছে না
সমাধান: (১) ইন্টারনেট সংযোগ চেক করুন, (২) ব্রাউজার ক্যাশ পরিষ্কার করুন, (৩) অন্য ব্রাউজার ব্যবহার করে দেখুন
সমস্যা: নম্বর মনে নেই
সমাধান: পুরাতন জন্ম সনদ, NID কার্ড বা পাসপোর্টে নম্বর আছে। না থাকলে স্থানীয় অফিস থেকে জানতে পারবেন
জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া
জন্ম নিবন্ধনে কোনো ভুল তথ্য থাকলে অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। নিচের প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন:
ধাপ ১: সংশোধন পেজে প্রবেশ
bdris.gov.bd/br/correction লিংকে যান। Birth Registration Correction অপশন সিলেক্ট করুন।
ধাপ ২: নিবন্ধন নম্বর দিয়ে খুঁজুন
আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ করুন। সঠিক তথ্য দিলে আপনার বর্তমান জন্ম নিবন্ধন তথ্য প্রদর্শিত হবে।
ধাপ ৩: সংশোধনের ধরন নির্বাচন
কোন তথ্য সংশোধন করতে চান তা সিলেক্ট করুন:
- নিজের নাম (বাংলা/ইংরেজি)
- পিতা-মাতার নাম
- জন্ম তারিখ
- জন্মস্থান/ঠিকানা
- লিঙ্গ
- জাতীয়তা
ধাপ ৪: সঠিক তথ্য প্রদান
যে তথ্য সংশোধন করতে চান তার সঠিক তথ্য টাইপ করুন। বানান অত্যন্ত সাবধানে লিখুন। পুরাতন ও নতুন তথ্য উভয়ই স্পষ্টভাবে দেখাবে।
ধাপ ৫: প্রমাণপত্র আপলোড
সংশোধনের সমর্থনে প্রয়োজনীয় স্ক্যান করা কপি আপলোড করুন। ফাইল সাইজ সর্বোচ্চ ২ MB হতে পারে। JPG, PNG বা PDF ফরমেট গ্রহণযোগ্য।
প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র:
- নাম সংশোধন → SSC সার্টিফিকেট + বাবা-মায়ের NID
- তারিখ সংশোধন → SSC সার্টিফিকেট (আবশ্যক) + হাসপাতাল সার্টিফিকেট
- ঠিকানা সংশোধন → হোল্ডিং ট্যাক্স + বিদ্যুৎ বিল
- পিতা-মাতার নাম → পিতা-মাতার NID + বিবাহ সনদ
ধাপ ৬: আবেদন সাবমিট ও প্রিন্ট
সব তথ্য পূরণ হলে Submit করুন। একটি Application ID পাবেন। আবেদন পত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট করুন (Headers and Footers সহ)।
ধাপ ৭: অফিসে জমা দিন
প্রিন্ট কপি ও সকল প্রমাণপত্রের হার্ড কপি নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে আপনার নিবন্ধন অফিসে (যেখানে প্রথম নিবন্ধন হয়েছিল) জমা দিন। সংশোধন ফি জমা দিতে হবে।
ধাপ ৮: অনুমোদন ও সনদ প্রাপ্তি
রেজিস্ট্রার যাচাই-বাছাই করে আবেদন অনুমোদন করবেন। সাধারণত ১৫-৩০ দিনের মধ্যে সংশোধিত সনদ পাবেন। Application ID দিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করুন।
💡 সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
- ✓ জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য SSC সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক
- ✓ একবারে একাধিক তথ্য সংশোধন করলে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে
- ✓ সকল প্রমাণপত্র স্পষ্ট ও রঙিন স্ক্যান করুন
- ✓ সংশোধন আবেদন সাবমিটের পর প্রিন্ট কপি দ্রুত জমা দিন
- ✓ রেজিস্ট্রার অফিসে গেলে সকল আসল কাগজপত্র সাথে নিন
❓ সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম কি?▼
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে everify.bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে যান। আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ (YYYY-MM-DD ফরমেটে) প্রদান করুন। ক্যাপচা সমাধান করে Search বাটনে ক্লিক করুন। সঠিক তথ্য দিলে আপনার জন্ম নিবন্ধন তথ্য প্রদর্শিত হবে এবং যাচাই কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।
নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদনের জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে?▼
নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন: (১) হাসপাতালের ছাড়পত্র বা টিকার কার্ড, (২) বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ ও NID কার্ড, (৩) হোল্ডিং ট্যাক্স বা ভাড়ার রশিদ, (৪) পাসপোর্ট সাইজের ছবি, (৫) ১৮ বছরের বেশি হলে শিক্ষাগত সনদ। আবেদন bdris.gov.bd/br/application ওয়েবসাইট থেকে করতে হবে।
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?▼
জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ফি জন্মের ৫ বছরের মধ্যে ৫০ টাকা, ৫-২৫ বছরের মধ্যে ১০০ টাকা, ২৫-৪৫ বছরের মধ্যে ২৫০ টাকা এবং ৪৫ বছরের পরে ৫০০ টাকা। সংশোধন আবেদন bdris.gov.bd/br/correction থেকে করতে হবে। তথ্যের ধরন অনুযায়ী ফি ভিন্ন হতে পারে।
জন্ম নিবন্ধনে নাম সংশোধন করার নিয়ম কি?▼
নাম সংশোধনের জন্য অনলাইনে সংশোধন আবেদন করুন। প্রমাণপত্র হিসেবে শিক্ষাগত সনদ (এসএসসি/সমমান), বাবা-মায়ের NID বা জন্ম সনদ জমা দিতে হবে। আবেদন ফর্ম প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা অফিসে জমা দিন। যাচাই-বাছাই শেষে সংশোধিত সনদ পাবেন। সাধারণত ১৫-৩০ দিন সময় লাগে।
জন্ম তারিখ সংশোধন করতে কি প্রয়োজন?▼
জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (বিশেষত SSC সার্টিফিকেট) অথবা ডাক্তারের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন। SSC সার্টিফিকেট থাকলে তা বাধ্যতামূলক। অনলাইনে সংশোধন আবেদন করে প্রিন্ট কপি ও প্রমাণপত্রসহ নির্ধারিত অফিসে জমা দিতে হবে। সংশোধনের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই কপি কিভাবে ডাউনলোড করবো?▼
everify.bdris.gov.bd তে গিয়ে আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ করুন। তথ্য প্রদর্শিত হলে Download বা Print অপশনে ক্লিক করে যাচাই কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। এই কপি বিভিন্ন সরকারি কাজে যেমন পাসপোর্ট আবেদন, NID সংশোধন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা যায়।
জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা কিভাবে জানবো?▼
আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে Application Status অপশনে ক্লিক করুন। আপনার Application ID এবং জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ করলে আবেদনের বর্তমান পর্যায় দেখতে পাবেন - Pending (প্রক্রিয়াধীন), Verified (যাচাই সম্পন্ন), Approved (অনুমোদিত), বা Rejected (বাতিল)। বাতিল হলে কারণ উল্লেখ থাকবে।
জন্ম নিবন্ধন করতে কত দিন সময় লাগে?▼
শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে আবেদন করলে বিনামূল্যে এবং ১০-১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সনদ পাওয়া যায়। দেরিতে আবেদন করলে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুযায়ী ১-২ মাস সময় লাগতে পারে। অনলাইন আবেদন করার পর প্রিন্ট কপি অফিসে দ্রুত জমা দিলে সময় কম লাগে। সঠিক কাগজপত্র জমা দিলে প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
জন্ম নিবন্ধন ছাড়া NID কার্ড পাওয়া যাবে কি?▼
না, জন্ম নিবন্ধন সনদ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) পাওয়া যায় না। ১৮ বছর বয়স হলে NID কার্ডের জন্য আবেদন করতে হয়, এবং তখন জন্ম নিবন্ধন নম্বর বাধ্যতামূলক। তাই NID পাওয়ার জন্য প্রথমে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে। যদি আগে না করা থাকে, তাহলে দেরি ফি দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করে নিতে হবে।
পুরাতন জন্ম সনদ ডিজিটাল করার উপায় কি?▼
পুরাতন (হাতে লেখা) জন্ম সনদ ডিজিটাল করতে হলে আপনার নিবন্ধন অফিসে (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন) যোগাযোগ করুন। পুরাতন সনদ, ছবি, NID কার্ডের কপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আবেদন করুন। রেজিস্ট্রার যাচাই করে ডিজিটাল এন্ট্রি করবেন। এরপর আপনি ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর পাবেন এবং অনলাইনে যাচাই করতে পারবেন।
জন্ম নিবন্ধন হারিয়ে গেলে কি করবো?▼
জন্ম নিবন্ধন সনদ হারিয়ে গেলে প্রথমে everify.bdris.gov.bd থেকে নিবন্ধন নম্বর দিয়ে যাচাই কপি ডাউনলোড করুন। এটি অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। মূল সনদের জন্য আপনার নিবন্ধন অফিসে গিয়ে আবেদন করুন। সাধারণত ৫০-১০০ টাকা ফি দিয়ে নতুন কপি পাওয়া যায়। NID কার্ডে জন্ম নিবন্ধন নম্বর থাকলে সেটি দেখিয়ে সহজে নতুন কপি পাবেন।
বিদেশে জন্ম হলে কিভাবে জন্ম নিবন্ধন করবো?▼
বিদেশে জন্ম হলে সেই দেশের জন্ম সনদ নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করুন। দূতাবাস থেকে প্রত্যয়িত কপি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (পিতা-মাতার পাসপোর্ট, বাংলাদেশী নাগরিকত্বের প্রমাণ) নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে পিতা-মাতার স্থায়ী ঠিকানার নিবন্ধন অফিসে আবেদন করুন। বিদেশি জন্ম সনদের অনুবাদ এবং নোটারি করা কপি প্রয়োজন হবে।
এখনও প্রশ্ন আছে?
আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাননি? নিচের যোগাযোগ মাধ্যমে সাহায্য নিন:
হেল্পলাইন নম্বর:
+880-2-9132474
সকাল ৯টা - বিকাল ৫টা
ইমেইল:
info@bdris.gov.bd
২৪-৪৮ ঘণ্টায় উত্তর
স্থানীয় অফিস:
ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা
সরাসরি সহায়তা