🕉️হনুমান চালিসা কি?
হনুমান চালিসা হল ভগবান হনুমানের স্তুতিমূলক একটি পবিত্র স্তোত্র যা মহাকবি গোস্বামী তুলসীদাস ১৬ শতাব্দীতে অবধী ভাষায় রচনা করেছিলেন। চালিসা শব্দের অর্থ হল চল্লিশ এবং এই স্তোত্রে ৪০টি চরণ বা দোহা রয়েছে যা হনুমানজীর গুণাবলী, শক্তি, সাহস এবং ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের প্রতি অকৃত্রিম ভক্তিকে বর্ণনা করে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: হনুমান চালিসা কেবলমাত্র একটি প্রার্থনা নয়, এটি একটি শক্তিশালী মন্ত্র যা মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি এবং জীবনে ইতিবাচক শক্তি নিয়ে আসে। প্রতিদিন সকালে বা সন্ধ্যায় নিয়মিত পাঠ করলে অসাধারণ ফল লাভ হয়।
Hanuman Chalisa Doha In Bengali – হনুমান চালিশা বাংলা দোহা
Hanuman Chalisa Dhyanam In Bengali – হনুমান চালিশা বাংলা ধ্যানম্
Full Hanuman Chalisa In Bengali (সম্পূর্ণ হনুমান চালিসা বাংলা)
📜 চালিসা (৪০ চরণ)
জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর।
জয় কপিস তিহু লোক উজাগর ॥ ১ ॥
রাম দূত অতুলিত বল ধামা।
অঞ্জনী-পুত্র পবন সুত নামা ॥ ২ ॥
মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী।
কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গি ॥ ৩ ॥
কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেষা।
কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেশা ॥ ৪ ॥
হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ।
কান্ধে মুঞ্জ জানিউ সাজে ॥ ৫ ॥
শঙ্কর সুবন কেশরী নন্দন।
তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন ॥ ৬ ॥
বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর ।
রাম কাজ করিবে কো আতুর ॥ ৭ ॥
প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া ।
রামলখন সীতা মন বসিয়া ॥ ৮ ॥
সূক্ষ্ম রূপধরি সিয়াহি দিখাবা ।
বিকট রূপধরি লংক জরাবা ॥ ৯ ॥
ভীম রূপধরি অসুর সংহারে ।
রামচন্দ্র কে কাজ সংবারে ॥ ১০ ॥
লায়ে সঞ্জীবন লখন জিয়ায়ে ।
শ্রী রঘুবীর হরষি উর লায়ে ॥ ১১ ॥
রঘুপতি কীন্হী বহুত বদায়ী ।
তুম মম প্রিয ভরত সম ভায়ি ॥ ১২ ॥
সহস্র বদন তুম্হরো য়শগাবৈ ।
অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈ ॥ ১৩ ॥
সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা ।
নারদ শারদ সহিত অহীশা ॥ ১৪ ॥
য়ম কুবের দিগপাল জহাং তে ।
কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে ॥ ১৫ ॥
তূম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা ।
রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা ॥ ১৬ ॥
তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা ।
লংকেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা ॥ ১৭ ॥
য়ুগ সহস্র য়োজন পর ভানূ ।
লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ ॥ ১৮ ॥
প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী ।
জলধি লংঘি গয়ে আচার্য নাহী ॥ ১৯ ॥
দুর্গম কাজ জগত কে জেতে ।
সুগম অনুগ্রহ তুমহ্রে তেতে ॥ ২০ ॥
রাম দুয়ারে তুম রখবারে ।
হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে ॥ ২১ ॥
সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা ।
তুম রক্ষক কাহূ কো ডরনা ॥ ২২ ॥
আপন তেজ সম্হারো আপৈ ।
তীনোং লোক হাংক তে কাংপৈ ॥ ২৩ ॥
ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ ।
মহাবীর জব নাম সুনাবৈ ॥ ২৪ ॥
নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা ।
জপত নিরন্তর হনুমত বীরা ॥ ২৫ ॥
সংকট সে হনুমান ছুড়াবৈ ।
মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ ॥ ২৬ ॥
সব পর রাম তপস্বী রাজা ।
তিনকে কাজ সকল তুম সাজা ॥ ২৭ ॥
ঔর মনোরধ জো কোয়ি লাবৈ ।
সহি অমিত জীবন ফল পাবৈ ॥ ২৮ ॥
চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা ।
হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা ॥ ২৯ ॥
সাধু সন্ত কে তুম রখবারে ।
অসুর নিকংদন রাম দুলারে ॥ ৩০ ॥
অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা ।
অস বর দীন্ জানকী মাতা ॥ ৩১ ॥
রাম রসায়ন তুম্হারে পাসা ।
সদা রহো রঘুপতি কে দাসা ॥ ৩২ ॥
তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ ।
জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ ॥ ৩৩ ॥
অন্ত কাল রঘুপতি পুরযায়ী ।
জহান জনম হরিভক্ত কহায়ী ॥ ৩৪ ॥
ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরায়ে ।
হনুমত সেযি সর্ব সুখ করায়ে ॥ ৩৫ ॥
সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা ।
জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা ॥ ৩৬ ॥
জয় জয় জয় হনুমান গোসায়ী ।
কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী ॥ ৩৭ ॥
যো শত বার পাঠ কর কোয়ী ।
ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোয়ী ॥ ৩৮ ॥
জো য়াহ পড়ে হনুমান চালীসা ।
হোয়ে সিদ্ধি সাখী গৌরীশা ॥ ৩৯ ॥
তুলসীদাস সদা হরি চেরা ।
কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা ॥ ৪০ ॥
Hanuman Chalisa Counter
হনুমান চালিশা বাংলা দোহা - সম্পূর্ণ তাৎপর্য
হনুমান চালিশা বাংলা ধ্যানম্ অর্থ
Hanuman Chalisa in Bengali Meaning হনুমান চালিশা বাংলা অর্থ চৌপাঈ
আপনি হনুমান চালিশা বাংলায় পাঠ শুরু করার আগে অবশ্যই জেনে নিন তার অর্থ। প্রতিটি শব্দের ও পংক্তির মানে জানা থাকলে, আপনার পাঠে আবেগ ও ভক্তি আসবে।
জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর। জয় কপিস তিহু লোক উজাগর ॥১॥
জ্ঞান ও গুণের সাগর হনুমানের জয়। তিন জগতের জাগরণকারী বানর বীরের জয় ॥১॥
রাম দূত অতুলিত বল ধামা। অঞ্জনী-পুত্র পবন সুত নামা ॥২॥
রামের দূত, অতুলনীয় শক্তি এবং গতি সহ, অঞ্জনীর পুত্র, বাতাসের বংশ বলে পরিচিত ॥২॥
মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী। কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গি ॥৩॥
শক্তিশালী এবং বলিষ্ঠ দেহের সাথে পরাক্রমশালী বীর, বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞায় কে তোমাকে মেলে? ॥৩॥
কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেষা। কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেশা ॥৪॥
সোনালি রঙ এবং সুন্দর পোশাকে সজ্জিত, সঙ্গে কানের দুল ঝুলানো এবং কোঁকড়ানো চুল ॥৪॥
হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ। কান্ধে মুঞ্জ জানিউ সাজে ॥৫॥
হাতে বজ্র ও পতাকা নিয়ে শোভিত, কাঁধ এবং কোমর জুড়ে একটি পবিত্র সুতো পরা ॥৫॥
শঙ্কর সুবন কেশরী নন্দন। তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন ॥৬॥
ভগবান শঙ্করের পুত্র ও কেশরীর আনন্দ, সেই পরাক্রমশালী যাঁর মহিমা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয় ॥৬॥
বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর। রাম কাজ করিবে কো আতুর ॥৭॥
কে জ্ঞানী, গুণী এবং অতি চতুর- কে রামের কাজ করতে ব্যাকুল হবে না? ॥৭॥
প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া। রামলখন সীতা মন বসিয়া ॥৮॥
যে ভক্তি সহকারে ভগবান রামের দিব্য কাহিনী করে শ্রবণ, তাদের মন রাম, লক্ষ্মণ ও সীতার প্রেমে হয় পরিপূর্ণ ॥৮॥
সূক্ষ্ম রূপধরি সিয়াহি দিখাবা। বিকট রূপধরি লংক জরাবা ॥৯॥
তুমি ক্ষুদ্র রূপ ধারণ করে সীতার সামনে উপস্থিত হয়েছো, আবার ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে লঙ্কা নগরীকে পুড়িয়েছো ॥৯॥
ভীম রূপধরি অসুর সংহারে। রামচন্দ্র কে কাজ সংবারে ॥১০॥
ভীমের ন্যায় বিশাল রূপে তুমি অসুর নাশ করো, ভগবান রামের সব কাজ তুমি একমাত্র করতে পারো ॥১০॥
লায়ে সঞ্জীবন লখন জিয়ায়ে। শ্রী রঘুবীর হরষি উর লায়ে ॥১১॥
সঞ্জীবনী এনে তুমি লক্ষণকে পুনর্জীবন দিয়েছো, ভগবান রামের হৃদয় সুখে পূর্ণ করেছো ॥১১॥
রঘুপতি কীন্হী বহুত বদায়ী। তুম মম প্রিয ভরত সম ভায়ি ॥১২॥
রঘুপতি (ভগবান রাম) ভরতকে খুব প্রশংসা করেছিলেন। তুমি ভরতেরই মতো তেনার পরম প্রিয় ভ্রাতা ॥১২॥
সহস্র বদন তুম্হরো য়শগাবৈ। অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈ ॥১৩॥
হাজার মুখ তোমার মহিমা গাইবার জন্য যথেষ্ট নয়, এই বলে প্রভু রাম তোমাকে আলিঙ্গন করেন ॥১৩॥
সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা। নারদ শারদ সহিত অহীশা ॥১৪॥
স্রষ্টা ব্রহ্মা সনকা, মুনি নারদ সকলে তোমার যথাযথ মহিমা বর্ননা করতে ব্যর্থ ॥১৪॥
য়ম কুবের দিগপাল জহাং তে। কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে ॥১৫॥
কবি এবং পণ্ডিতরা ইত্যাদি এমনকি যমরাজ, কুবের এবং দিগপালের মতো দেবতারাও হনুমানের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে ব্যর্থ ॥১৫॥
তূম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা। রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা ॥১৬॥
তুমি সুগ্রীবের একটি মহান উপকার করেছো, তাকে শ্রী রামের সাথে একত্রিত করে রাজকীয় সিংহাসনে স্থাপন করেছ ॥১৬॥
তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা। লংকেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা ॥১৭॥
তোমার ভগবান রামের উপদেশ বিভীষণ মানে, লঙ্কার অধীশ্বরের (রাবণ) ভয় সম্পর্কে সমস্ত বিশ্ব জানে ॥১৭॥
য়ুগ সহস্র য়োজন পর ভানূ। লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ ॥১৮॥
সহস্র যোজন উর্দ্ধে সূর্য্যদেবকে দেখে, ভুল করে তারে মিষ্টি ফল ভেবে গ্রাস করেছিলে ॥১৮॥
প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী। জলধি লংঘি গয়ে আচার্য নাহী ॥১৯॥
প্রভু রামের আংটি মুখে নিয়ে তুমি নির্দ্বিধায় সমস্ত বাঁধাকে তুচ্ছ করে সাগর পারি দিয়ে ছিলে ॥১৯॥
দুর্গম কাজ জগত কে জেতে। সুগম অনুগ্রহ তুমহ্রে তেতে ॥২০॥
দুর্গম কাজ যা পৃথিবীতে কেউ সম্পন্ন করতে পারেনা, তা তোমার অনুগ্রহে সহজ সরল হয়ে যায় ॥২০॥
রাম দুয়ারে তুম রখবারে। হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে ॥২১॥
প্রভু রামের দুয়ারে তুমি চিরকালের রক্ষী, তোমার আজ্ঞা ছাড়া কেহ না প্রবেশ করতে পারে ॥২১॥
সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা। তুম রক্ষক কাহূ কো ডরনা ॥২২॥
তোমার কৃপায় আমি সর্বসুখ লাভ করি, তুমি যেথা রক্ষী, সেথা আর কারে ডরি ॥২২॥
আপন তেজ সম্হারো আপৈ। তীনোং লোক হাংক তে কাংপৈ ॥২৩॥
নিজের তেজ, তুমি নিজেই করো সম্বরণ, তোমার হুঙ্কারে দেখো কাঁপে ত্রিভুবন ॥২৩॥
ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাবৈ ॥২৪॥
ভুত, প্রেত, পিশাচ কভু কাছে না আসে, মহাবীর নাম তবে যে স্মরণ করে ॥২৪॥
নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা। জপত নিরন্তর হনুমত বীরা ॥২৫॥
রোগ, কষ্ট ও দুর্দশা সব দূর হয়, যে জন তোমার নাম জপ করে ॥২৫॥
সংকট সে হনুমান ছুড়াবৈ। মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ ॥২৬॥
বিপদ ও সংকটে একমাত্র মহাবীর হনূমান উদ্ধার করে, যে তার নাম (হনুমান) চিরকাল ধ্যান করে ॥২৬॥
সব পর রাম তপস্বী রাজা। তিনকে কাজ সকল তুম সাজা ॥২৭॥
যে মহাপ্রভু রামের ধ্যান তপস্যা করে, তুমি তাদের সমস্ত কঠিন কাজকে সহজ করো ॥২৭॥
ঔর মনোরধ জো কোয়ি লাবৈ। সহি অমিত জীবন ফল পাবৈ ॥২৮॥
তোমার চরণে যে অন্তরের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে সমর্পণ করে, তবে সে জীবনের সীমাহীন ফল লাভ করে ॥২৮॥
চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা। হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা ॥২৯॥
তোমার নামের খ্যাতি ছড়াবে চার যুগে, তোমার মহিমাতে আলোকিত হবে জগৎ জুড়ে ॥২৯॥
সাধু সন্ত কে তুম রখবারে। অসুর নিকংদন রাম দুলারে ॥৩০॥
হে হনুমান, তুমি রক্ষা করো সাধু সন্ত, অসুর সংহার করে তুমি শ্রী রামের প্রিয় ভক্ত ॥৩০॥
অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা। অস বর দীন্ জানকী মাতা ॥৩১॥
তুমি অষ্ট সিদ্ধি ও নব নিধির শক্তি দান করতে পারো, যা তুমি বরদান রূপে পেয়েছো, জানকি মাতার থেকে ॥৩১॥
রাম রসায়ন তুম্হারে পাসা। সদা রহো রঘুপতি কে দাসা ॥৩২॥
হে হনুমান, তুমি রাম নামের অমৃতের অধিকারী, সর্বদা ভগবান রঘুপতির সেবক হয়ে থাকো ॥৩২॥
তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ। জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ ॥৩৩॥
তোমার আরাধনা করে, কেউ ভগবান রামের ভক্তি লাভ করতে পারে, এবং তা করে জন্ম জন্মের সমস্ত কষ্ট থেকে মুক্ত হতে পারে ॥৩৩॥
অন্ত কাল রঘুপতি পুরযায়ী। জহান জনম হরিভক্ত কহায়ী ॥৩৪॥
রঘুপতি রামের সেবায়, যে জীবন নিবেদন করে, তিনি প্রতি জন্মে হরি (ভগবান বিষ্ণুর) ভক্ত হবে ॥৩৪॥
ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরায়ে। হনুমত সেযি সর্ব সুখ করায়ে ॥৩৫॥
অপর কোন দেবতার প্রতি চিত্ত নিবিষ্ট না করেও কেবল হনুমানের সেবা করেই সর্বফল লাভ করা যেতে পারে ॥৩৫॥
সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা। জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা ॥৩৬॥
রোগের সমস্ত বিপদ থেকে মুক্তি পায় সে, যে মহাবলী বীর্যবীর হনুমান কে স্মরণ করে ॥৩৬॥
জয় জয় জয় হনুমান গোসায়ী। কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী ॥৩৭॥
হে প্রভু হনুমানজি, তোমার জয় হোক, জয় হোক, জয় হোক। তোমার গুরুদেবের মতোই তুমি আমাকে কৃপা করো ॥৩৭॥
যো শত বার পাঠ কর কোয়ী। ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোয়ী ॥৩৮॥
এই হনুমান চালিশা যে শত বার পাঠ করবে, সে পার্থিব বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে প্রভুত্ব সুখ ও সৌভাগ্য লাভ করবে ॥৩৮॥
জো য়াহ পড়ে হনুমান চালীসা। হোয়ে সিদ্ধি সাখী গৌরীশা ॥৩৯॥
যিনি এই হনুমান চালিশা ভক্তি সহকারে পাঠ করেন, স্বয়ং ভগবান শিব সাক্ষী, তিনি অবশ্যই সিদ্ধি লাভ করেন ॥৩৯॥
তুলসীদাস সদা হরি চেরা। কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা ॥৪০॥
তুলসীদাস (নিজ নাম) সদা প্রভু হরির ভক্ত, এই বিশ্বাস করে হৃদয়ে স্থান দাও ॥৪০॥
📖হনুমান চালিসা পাঠের নিয়ম
🌅 সর্বোত্তম সময়
- সকালে সূর্যোদয়ের সময় বা ব্রহ্মমুহূর্তে (ভোর ৪-৬ টা)
- মঙ্গলবার এবং শনিবার বিশেষ ফলদায়ক
- সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের পূর্বে
- যে কোনো সংকটকালে যেকোনো সময়
🧼 পাঠের প্রস্তুতি
- স্নান করে পবিত্র হয়ে পরিষ্কার জামাকাপড় পরুন
- শান্ত ও পবিত্র স্থানে বসুন (পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে)
- হনুমানজীর ছবি বা মূর্তি সামনে রাখুন
- প্রদীপ/মোমবাতি জ্বালান এবং ধূপ-অগরবাতি দিন
- ফুল, ফল, প্রসাদ (লাড্ডু, কলা, তুলসী পাতা) নিবেদন করুন
📿 পাঠ পদ্ধতি
- প্রথমে ওঁ গণ গণপতয়ে নমঃ তিনবার উচ্চারণ করুন
- জয় শ্রী রাম, জয় হনুমান উচ্চারণ করুন
- হনুমানজীকে প্রণাম করুন এবং মনোবাঞ্ছা করুন
- ধীরে ধীরে শ্রদ্ধা ও ভক্তি সহকারে চালিসা পাঠ করুন
- পাঠ শেষে হনুমানজীর আরতি করুন
- প্রসাদ বিতরণ করুন
⚠️ বিশেষ নির্দেশনা
- প্রতিদিন নিয়মিত একই সময়ে পাঠ করার চেষ্টা করুন
- পাঠের সময় মনোযোগী থাকুন এবং অন্য চিন্তা এড়িয়ে চলুন
- খালি পেটে বা ভোজনের কমপক্ষে ২ ঘন্টা পরে পাঠ করুন
- বিশেষ মনস্কামনা পূরণের জন্য ৪০ দিন নিয়মিত পাঠ করুন
- সম্ভব হলে মঙ্গলবার ব্রত রাখুন
✨হনুমান চালিসা পাঠের উপকারিতা
শারীরিক ও মানসিক শক্তি
নিয়মিত পাঠে শরীর ও মনে অসীম শক্তি, সাহস এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। জীবনের যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার ক্ষমতা বাড়ে।
বাধা ও বিপদ দূরীকরণ
হনুমান চালিসা পাঠ করলে জীবনের সমস্ত বাধা, বিপদ, দুর্ঘটনা এবং নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। সংকট মুহূর্তে হনুমানজীর আশীর্বাদ পাওয়া যায়।
মানসিক শান্তি ও ধ্যান
চালিসা পাঠে মনের অশান্তি, উদ্বেগ, ভয় এবং ক্রোধ দূর হয়। মনে প্রশান্তি আসে এবং ধ্যান-যোগে স্থিরতা লাভ হয়।
ভূত-প্রেত ও নেতিবাচক শক্তি থেকে সুরক্ষা
হনুমান চালিসা পাঠ করলে ভূত, প্রেত, পিশাচ এবং সমস্ত প্রকার অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ঘরে শান্তি ও সুরক্ষা আসে।
রোগ নিরাময়
নিয়মিত চালিসা পাঠ করলে শারীরিক রোগ-ব্যাধি কমে এবং সুস্বাস্থ্য লাভ হয়। বিশেষত দীর্ঘস্থায়ী রোগে উপশম হয়।
সফলতা ও সমৃদ্ধি
হনুমান চালিসা পাঠে চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফলতা আসে। আর্থিক সমস্যা দূর হয় এবং সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।
আধ্যাত্মিক উন্নতি
চালিসা পাঠে আধ্যাত্মিক জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, মনে ভক্তিভাব জাগ্রত হয় এবং ঈশ্বরের সাথে সংযোগ গভীর হয়।
পারিবারিক সুখ ও শান্তি
পরিবারে কলহ, অশান্তি দূর হয় এবং সকলের মধ্যে প্রেম, বোঝাপড়া এবং সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। ঘরে সুখ-শান্তি বিরাজ করে।
❓সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
❔হনুমান চালিসা কি?
হনুমান চালিসা হল ভগবান হনুমানের স্তুতিমূলক একটি ৪০ চরণের স্তোত্র যা তুলসীদাস রচনা করেছিলেন। এটি অবধী ভাষায় লেখা এবং হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি প্রার্থনা।
❔হনুমান চালিসা পাঠের উপকারিতা কি?
হনুমান চালিসা পাঠ করলে মানসিক শান্তি, শক্তি ও সাহস বৃদ্ধি পায়। এটি বাধা দূর করতে, ভয় কাটাতে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতিতে সাহায্য করে। নিয়মিত পাঠে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
❔হনুমান চালিসা কখন পড়া উচিত?
হনুমান চালিসা যে কোনো সময় পড়া যায়, তবে সকালে বা মঙ্গলবার এবং শনিবার পড়া বিশেষ ফলদায়ক। অনেকে সূর্যোদয়ের সময় বা সন্ধ্যায় পাঠ করেন।
❔হনুমান চালিসায় কতগুলি চরণ আছে?
হনুমান চালিসায় মোট ৪০টি চরণ বা দোহা আছে, যার সাথে দুটি দোহা শুরুতে এবং একটি দোহা শেষে থাকে।
❔হনুমান চালিসা কে লিখেছেন?
হনুমান চালিসা মহাকবি তুলসীদাস ১৬ শতকে রচনা করেছিলেন। তিনি রামচরিতমানসের রচয়িতা হিসেবেও বিখ্যাত।
❔হনুমান চালিসা কত বার পড়া উচিত?
দৈনিক একবার পাঠ করলেই যথেষ্ট ফল পাওয়া যায়। তবে বিশেষ মনস্কামনা পূরণের জন্য ৭ বার, ১১ বার, ২১ বার বা ১০৮ বার পাঠ করা যেতে পারে। ৪০ দিন নিয়মিত পাঠ করলে বিশেষ ফলদায়ক।
❔মহিলারা কি হনুমান চালিসা পড়তে পারেন?
হ্যাঁ, অবশ্যই! সকল বয়স ও লিঙ্গের মানুষ হনুমান চালিসা পাঠ করতে পারেন। মহিলারাও শ্রদ্ধা ও ভক্তি সহকারে যেকোনো সময় পাঠ করতে পারেন।
❔হনুমান চালিসা পাঠের জন্য কি বিশেষ প্রস্তুতি প্রয়োজন?
বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই, তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেকে, শান্ত মনে এবং ভক্তিভাবে পাঠ করলে বেশি ফল পাওয়া যায়। সম্ভব হলে স্নান করে পবিত্র হয়ে পাঠ করুন।
📚হনুমান চালিসার ইতিহাস ও রচনা
হনুমান চালিসা রচনা করেছিলেন মহাকবি গোস্বামী তুলসীদাস ১৬ শতাব্দীতে। তুলসীদাস ছিলেন ভগবান শ্রী রামের একজন মহান ভক্ত এবং তিনি হিন্দী সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচিত রামচরিতমানস ভারতীয় সাহিত্যের একটি অমূল্য সম্পদ।
কিংবদন্তি অনুসারে: তুলসীদাস একবার মুঘল সম্রাট আকবরের কারাগারে বন্দী ছিলেন। কারাগারে থাকাকালীন তিনি হনুমান চালিসা রচনা করেন এবং নিয়মিত পাঠ করতে থাকেন। হনুমানজীর কৃপায় বানরের দল এসে শহরে উৎপাত শুরু করে এবং সম্রাট আকবর তুলসীদাসকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন।
হনুমান চালিসা অবধী ভাষায় রচিত, যা মধ্যযুগীয় হিন্দীর একটি উপভাষা। এটি ৪০টি চৌপাই (চতুষ্পদী শ্লোক) নিয়ে গঠিত এবং এর সাথে দুটি প্রারম্ভিক দোহা এবং একটি সমাপনী দোহা রয়েছে। প্রতিটি চরণ হনুমানজীর বিভিন্ন গুণ, শক্তি, সাহস এবং শ্রী রামের প্রতি নিষ্ঠাবান ভক্তিকে বর্ণনা করে।
আজ হনুমান চালিসা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ হিন্দু ভক্তের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধুমাত্র ভারত নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মন্দিরে, ঘরে, গাড়িতে - সর্বত্র এই পবিত্র স্তোত্র পাঠ করা হয়।
🦸ভগবান হনুমান - চিরঞ্জীবী মহাবীর
ভগবান হনুমান হলেন পবনপুত্র (বায়ুদেবের পুত্র) এবং মাতা অঞ্জনীর সন্তান। তিনি একাধারে শক্তি, বুদ্ধি, বিদ্যা, সাহস এবং ভক্তির প্রতীক। হনুমানজী রামায়ণের অন্যতম প্রধান চরিত্র এবং ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের সবচেয়ে নিষ্ঠাবান ভক্ত।
হনুমানজীর বিশেষ গুণাবলী:
- অতুলনীয় শক্তি: হনুমানজী অসীম শক্তির অধিকারী এবং বজরংবলী নামে পরিচিত
- চিরঞ্জীবী: তিনি চিরঞ্জীবী (অমর) এবং আজও পৃথিবীতে বিদ্যমান বলে বিশ্বাস করা হয়
- বিদ্যাবান: তিনি সকল বেদ-শাস্ত্রে পারদর্শী এবং জ্ঞানের সাগর
- নিঃস্বার্থ ভক্তি: শ্রী রামের প্রতি তাঁর ভক্তি নিঃস্বার্থ এবং অতুলনীয়
- সংকট মোচনকারী: তিনি সকল সংকট দূর করেন এবং ভক্তদের রক্ষা করেন
রামায়ণে হনুমানজীর অসংখ্য বীরত্বপূর্ণ কাহিনী রয়েছে। তিনি একাই সমুদ্র পার হয়ে লঙ্কায় গিয়েছিলেন, সীতা মাতাকে খুঁজে বের করেছিলেন, লঙ্কা দহন করেছিলেন এবং সঞ্জীবনী বুটি নিয়ে আসার জন্য সম্পূর্ণ পর্বত তুলে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর এই অসাধারণ কীর্তিগুলি তাঁকে হিন্দু ধর্মের অন্যতম পূজনীয় দেবতায় পরিণত করেছে।