আয়াতুল কুরসি বাংলা | ayatul kursi bangla

বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত সহ | সুরা বাকারা: ২৫৫

📑সূচিপত্র

☪️আয়াতুল কুরসি কি?

পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াতকে আয়াতুল কুরসি বলা হয়। এ আয়াতটিতে আল্লাহর একত্ববাদ, মর্যাদা ও গুণের বর্ণনা থাকায় এটির বিশেষ ফজিলত ও বরকত রয়েছে।

হাদিস শরিফে বর্ণিত:

উবাই ইবনে কা ব (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, রাসুল (সা.) এ আয়াতটিকে কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত বলেছেন। (সহিহ মুসলিম: ৮১০)

বিশেষ বৈশিষ্ট্য:

  • কোরআন শরিফের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ আয়াত
  • আল্লাহর একত্ববাদ ও মহিমার পূর্ণ বর্ণনা
  • প্রতিটি মুসলমানের জানা ও মুখস্থ রাখা উচিত
  • যেকোনো সময় পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ

📖আয়াতুল কুরসি (আরবি)

اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ

সুরা বাকারা: ২৫৫

🗣️আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুমু। লা তা'খুযুহু সিনাতুওঁ ওয়ালা নাওম। লাহু মা ফিসসামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইযনিহ। ইয়া'লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইয়্যিম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ। ওয়াসিআ কুরসিইয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল আলিয়্যুল আজিম।

📝 উচ্চারণ টিপস:

  • ধীরে ধীরে ও স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করুন
  • প্রতিটি শব্দ সঠিকভাবে বলার চেষ্টা করুন
  • তাজউইদ অনুযায়ী পড়তে চেষ্টা করুন
  • নিয়মিত পাঠ করলে সহজ হয়ে যাবে

💡আয়াতুল কুরসি বাংলা অর্থ

আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না ও নিদ্রাও নয়। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবকিছু তাঁরই। কে আছে এমন যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তাঁদের সামনে কী আছে ও পিছনে কী আছে সবই তিনি জানেন এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না। তাঁর কুরসি আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টিত করেছে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করতে তাঁর কষ্ট হয় না। এবং তিনিই সর্বোচ্চ ও মহান।

🔑 মূল বিষয়:

  • আল্লাহর একত্ববাদ
  • তাঁর চিরঞ্জীবিতা ও চিরস্থায়িত্ব
  • সমগ্র বিশ্বের মালিকানা
  • তাঁর সর্বজ্ঞতা ও সর্বশক্তিমানতা

📌 গুরুত্বপূর্ণ শব্দ:

  • হাইয়্যুল কাইয়ুম: চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী
  • কুরসি: আল্লাহর মর্যাদা ও প্রভাব
  • আলিয়্যুল আজিম: সর্বোচ্চ ও মহান

আয়াতুল কুরসি পাঠের ফজিলত ও উপকারিতা

🕌

নামাজের পর

হাদিস: যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনও অন্তরায় থাকবে না।

(সুনানে নাসাঈ: ৯৪৪৮)

🌙

ঘুমানোর আগে

হাদিস: কেউ যদি রাতে শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করে, তাহলে সকাল পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তার জন্য একজন হেফাজতকারী থাকে এবং শয়তান তার কাছে যেতে পারে না।

(সহিহ বুখারি: ৫০১০)

🌅

সকাল ও সন্ধ্যায়

হাদিস: যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত জ্বিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে এবং যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত হেফাজতে থাকবে।

(মুসতাদরাকে হাকেম: ১/৭৪৯)

🎯 আরও ফজিলত

🛡️

সুরক্ষা

শয়তান ও খারাপ শক্তি থেকে রক্ষা পায়

☮️

শান্তি

মনে প্রশান্তি ও শান্তি আসে

🏠

ঘরের বরকত

ঘরে বরকত ও শান্তি বৃদ্ধি পায়

💰

রিযিক

রিযিকে বরকত হয় ও প্রশস্ততা আসে

🕌আয়াতুল কুরসি কখন পড়বেন

সর্বোত্তম সময়

🕌

প্রতিটি ফরজ নামাজের পর

বিশেষভাবে সুন্নত ও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ

🌙

রাতে ঘুমানোর আগে

সারারাত সুরক্ষিত থাকার জন্য

🌅

সকাল ও সন্ধ্যায়

জ্বিনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে

🏠

ঘর থেকে বের হওয়ার সময়

বাইরে সুরক্ষা ও হেফাজতের জন্য

💡 যেকোনো সময় পড়তে পারেন

  • বিপদ-আপদের সময়
  • ভয় বা অস্থিরতার সময়
  • অসুস্থ থাকলে
  • সফরের সময়
  • যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে

🌟আয়াতুল কুরসির অলৌকিক সৌন্দর্য

আয়াতুল কুরসিতে মোট ৯টি বাক্য আছে এবং এই বাক্যগুলোর সাজানো অত্যন্ত সুন্দর ও অলৌকিক।

১ম৯ম

১ম: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক।
৯ম: তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

২য়৮ম

২য়: তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়।
৮ম: সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়।

৩য়৭ম

৩য়: আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর।
৭ম: তাঁর কুরসি সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে।

৪র্থ৬ষ্ঠ

৪র্থ: কে আছ এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া?
৬ষ্ঠ: তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে কিছুই পরিবেষ্টিত করতে পারে না।

৫ম বাক্য

৫ম বাক্য: দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন।

এই বাক্যটি মাঝে থেকে কী সুন্দরভাবে তার অর্থ ও অবস্থানকে অর্থবহ করে তোলে!

অলৌকিক বৈশিষ্ট্য

আয়াতুল কুরসির এই অলৌকিক সাজানো প্রমাণ করে যে এটি আল্লাহর বাণী। মানুষের পক্ষে এমন নিখুঁত ও সুন্দর সাজানো সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ!

📚আবু হুরায়রা (রা.) ও শয়তানের ঘটনা

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) একদিন দেখতে পেলেন, এক ব্যক্তি সদকার মাল চুরি করছে। তিনি তার হাত ধরে বললেন, আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুল (সা.)–এর কাছে নিয়ে যাব। তখন আগন্তুক বলে যে সে খুব অভাবী।

আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দিলেন। পরদিন সকালে রাসুল (সা.)–এর কাছে আসার পর তিনি বললেন, সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে, সে আবার আসবে।

পরদিন আবু হুরায়রা চোরকে পাকড়াও করলেন আর বললেন, এবার অবশ্যই আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুল (সা.)–এর কাছে নিয়ে যাব। এবারও সেই চোর একই কথা বলে এবং শপথ করে যে আর আসবে না।

পরদিন আবারও রাসুল (সা.) বললেন, আসলেই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবারও আসবে।

তৃতীয়বার যখন চোর ধরা পড়ল, তখন সে বলে, আমাকে মাফ করো। আমি তোমাকে এমন কিছু বলে দেব, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন।

চোর বলে, যখন ঘুমাতে যাবে, তখন আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমাবে, তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন পাহারাদার নিযুক্ত করবেন, যে তোমার সঙ্গে থাকবে আর কোনো শয়তান সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে আসতে পারবে না।

পরদিন রাসুল (সা.) আগের রাতের কথা শুনে বললেন, যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী কিন্তু সে সত্য বলেছে।

রাসুল (সা.) আবু হুরায়রা (রা.)–কে বললেন, তুমি কি জানো সে কে? আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, না। রাসুল (সা.) বললেন, সে হচ্ছে শয়তান।

[সহিহ বুখারি: ২৩১১]

💡 শিক্ষা

এই ঘটনা থেকে আমরা জানতে পারি যে, রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়লে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকারী ফেরেশতা নিযুক্ত হন এবং শয়তান সকাল পর্যন্ত কাছে আসতে পারে না।

প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

আয়াতুল কুরসি কি?

আয়াতুল কুরসি হল পবিত্র কোরআন শরিফের সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। এটি কোরআনের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ আয়াত। এতে আল্লাহর একত্ববাদ, মর্যাদা ও গুণের বর্ণনা রয়েছে।

আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত কি?

প্রতিটি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না। রাতে ঘুমানোর আগে পড়লে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকারী থাকবে এবং শয়তান কাছে আসতে পারবে না।

আয়াতুল কুরসি কখন পড়া উচিত?

আয়াতুল কুরসি যেকোনো সময় পড়া যায়। বিশেষ করে: (১) প্রতিটি ফরজ নামাজের পর, (২) রাতে ঘুমানোর আগে, (৩) সকাল ও সন্ধ্যায়, (৪) ঘর থেকে বের হওয়ার সময়, (৫) বিপদ-আপদের সময়।

আয়াতুল কুরসি কোন সুরার কত নম্বর আয়াত?

আয়াতুল কুরসি হল সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। সুরা বাকারা কোরআনের দ্বিতীয় সুরা এবং সবচেয়ে দীর্ঘ সুরা।

আয়াতুল কুরসি মুখস্থ করা কি জরুরি?

আয়াতুল কুরসি মুখস্থ করা ফরজ নয়, তবে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং অত্যন্ত উপকারী। প্রতিটি মুসলমানের এটি মুখস্থ করা উচিত কারণ এটি ছোট, সহজ এবং অসাধারণ ফজিলতপূর্ণ।

আয়াতুল কুরসি কতবার পড়া উচিত?

নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। প্রতিটি ফরজ নামাজের পর একবার, রাতে ঘুমানোর আগে একবার এবং সকাল-সন্ধ্যায় একবার করে পড়া সুন্নত। এছাড়া যত বেশি সম্ভব পড়া যেতে পারে।